ফিলাটেলি এবং ডাকটিকেটের পাঁচটি সাইট

ফিলাটেলি এবং ডাকটিকেটের পাঁচটি সাইট

ডাকটিকেট সংগ্রহ একটি প্রাচীন বিনোদন ও শিক্ষামূলক শখ হিসেবে বিশ্ব জুড়ে স্বীকৃত। ডাকটিকেটের ওপর করা স্টাডিকে ফিলাটেলি বলে। ডিজাইন প্রডাকশন সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত। ডাকটিকেট শুধু এক টুকরো রঙিন কাগজ নয়, এটি একটি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি – মোট কথা সেই দেশের পরিচয় তুলে ধরে। ফিলাটেলি বা ডাকটিকেট সংগ্রহ করে একদিকে যেমন পাওয়া যায় নির্মল আনন্দ, তৃপ্তি তেমনি তা আপনার সামনে খুলে দেবে জ্ঞানের দুয়ার। সঠিক উপায়ে ডাকটিকেট শুধু জ্ঞান বাড়ায় না, এটি হয়ে উঠতে পারে একটি উত্তম বিনিয়োগ। ডাকটিকেটের দাম কখনো কমে না, বরং দিন দিন বাড়তেই থাকে। ফলে আজ যে দামে ডাকটিকেট কেনা হলো, পরে তা যদি দুর্লভ বা দুষ্প্রাপ্য হয়ে যায়, তাহলে তার দাম বেড়ে যায় অনেকখানি, ডাকটিকেট হয়ে ওঠে দুর্মূল্য।
উইকিপিডিয়াতে ফিলাটেলি এবং ডাকটিকেট সংগ্রহ নিয়ে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। এমন দুটি পেজ হলো
http://en.wikipedia.org/wiki/Philately এবং http://en.wikipedia.org/wiki/Stamp_collecting

তবে আজ এ সংক্রান্ত অন্য পাঁচটি সাইট নিয়ে আলোচনা থাকবে।

http://www.mediabd.com
stamp1এটি মজার ব্যাপার যে, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ফিলাটেলির ওপর বিভিন্ন সংগঠন এবং ওয়েবসাইট গড়ে উঠেছে। মিডিয়াবিডি সংগঠনটি ১৯৮৬ সাল থেকে ডাকটিকেট এবং ফিলাটেলি সংক্রান্ত বিভিন্ন সরঞ্জাম বেচাকেনা করে আসছে। ১৯৯৮ সাল থেকে তারা তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফিলাটেলি এবং বাংলাদেশের ডাকটিকেট বিশ্ব বাজারে তুলে ধরছে। বাংলাদেশ ডাকঘর থেকে প্রকাশিত বেশ কিছু ডাকটিকেট এবং ফার্স্ট ডে কভার তারা সংরক্ষণ করছে। প্রতিটি প্রকাশনীর ডিজাইনারসহ বেশ কিছু তথ্য সেখানে যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মোট ৮১১টি দুর্লভ স্ট্যাম্প তাদের সংগ্রহে আছে। পে-পল অ্যাকাউন্ট বা অন্যান্য ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে এখান থেকে ডাকটিকেট সরাসরি ক্রয় করার সুবিধা আছে।

http://www.stamps.net
magnifying_glass_with_stampডাকটিকেটের মূল্যমান অটুট রাখতে সব সময় নজর দিতে হবে এর সংরক্ষণের ওপর। বাজারে অনেক দেশি-বিদেশি স্ট্যাম্প অ্যালবাম পাওয়া যায়। তাছাড়া ‘মাল্টি প্রটেক্টর’ ডাকটিকেটের স্থায়িত্ব বাড়ায়। ডাকটিকেট সামগ্রীর মধ্যে জার্মানিই মানসম্মত পণ্য তৈরি করে। ডাকটিকেট তুলতে চিমটা, আতশী কাচ ব্যবহার করুন। এ সাইটটি আপনাকে ডাকটিকেট সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে তা সংরক্ষণ এবং বিক্রয়ের যাবতীয় তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে। বিভিন্ন অনলাইন স্ট্যাম্প ক্যাটালগের মাধ্যমে জানতে পারবেন বিশ্বের ডাকটিকেটগুলোর ইতিহাস এবং আদ্যোপান্ত। সে ক্ষেত্রে আপনাকে কিছু ডলার খরচ করতে হবে। এছাড়া এ সাইটে আপনি পাবেন ডাকটিকেট সংগ্রাহকদের ক্লাব ও সোসাইটির ঠিকানা।

http://www.bangladeshpost.gov.bd
service_1994_curzon_hall_5tkএটি বাংলাদেশ পোস্ট অফিসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট। এএসপি ডট নেটে করা চমৎকার সাইটটি বাংলা এবং ইংরেজিতে দুই ভাষাতেই ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে সুন্দর দেখা যায়। ফায়ারফক্স ব্যবহারকারীরা কিছুটা সমস্যায় পড়বেন। এ সাইটে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত স্মারক ডাকটিকেটসহ অন্যান্য ডাকটিকেট এবং উদ্বোধনী খাম সংরক্ষণ করা হয়েছে। যারা নিয়মিত ডাকটিকেট সংগ্রহ করেন তারা এ সাইটে ঢু মারতে পারেন। ১৯৭১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ডাকটিকেটগুলো বছরওয়ারি বিন্যন্ত করা হয়েছে। পছন্দ হলে পরে ডাকঘরে গিয়ে নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে ডাকটিকেট সংগ্রহ করা যায়। জিপিওর কাউন্টার ফিলাটেলিক ব্যুরোতে সারা বছর ডাকটিকেট সরবরাহ করা হয়।

http://www.dhakaphila.com
এটিও বাংলাদেশি একটি সাইট। অনলাইন শপিং কার্টের ব্যবস্থা থাকলেও এখানে ডাকটিকেটের সংগ্রহ খুবই কম। শুরুতে বিনিময় প্রথায়, অর্থাৎ অদল-বদল করে বাড়িতে আসা চিঠিপত্রে থাকা ডাকটিকেট সংগ্রহ চললেও, সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা গড়ে তুলতে কেনাবেচা করতেই হবে। ডাকটিকেট পাওয়ার একটি বড় উৎস হলো বিদেশে কোনো কলম বন্ধু তৈরি। বর্তমানে সবাই ই-মেইল নির্ভর হয়ে পড়ার কারণে এ পন্থাটিও সেকেলে হতে চলেছে।

http://www.myphilately.com
stampcollectingডাকটিকেট সংগ্রাহকদের সাহায্য-সহযোগিতা ও উৎসাহ দেয়ার জন্য দেশে রয়েছে কয়েকটি ফিলাটেলিক সংস্থা। পাশাপাশি এ সাইটটি আপনাকে দেবে সারা বিশ্বের ডাকটিকেট সংগ্রাহকদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ। এখানে ফ্রি রেজিস্ট্রেশনের সুবিধা আছে। আপনার সংগ্রহগুলো এখানে তুলে ধরতে পারেন। ডাকটিকেট সংগ্রাহক অনেক বন্ধু জুটে যাবে এখানে। আপনার নিজের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারেন এবং বাংলাদেশের ডাকটিকেটগুলো বহির্বিশ্বের কাছে তুলে ধরার মাধ্যমে আপনি একটি অনন্য ভূমিকাও রাখতে পারেন।

সৈয়দ জিয়াউল হাবীব রুবন

jaijaidin_logo

০৮ মার্চ ২০০৮ তারিখে যায়যায়দিন দৈনিকে প্রকাশিত

About the Author