একসময় বাংলা কমপিউটিং ছিল স্বপ্নের মতো। আদৌ সম্ভব হবে কি না এ নিয়ে ছিল হাজারো জল্পনা-কল্পনা। বাংলা কমপিউটিং মানে – বাংলায় লেখাপড়া ছাড়াও অপারেটিং সিস্টেম থেকে শুরু করে মেইলিং, ডেটাবেজ, অনুসন্ধান, ওয়েবসাইট, ফোরাম সবকিছুই হবে বাংলায়। দিন বদলে গেছে। এখন যাবতীয় কাজ আমরা বাংলা ভাষায় করতে পারছি। আর এটি সম্ভব হয়েছে ইউনিকোডে বাংলা ভাষার অন্তর্ভুক্তির কারণে। ২০০০ সালে বাংলা ভাষাকে প্রথম ইউনিকোডের (Unicode) আওতায় আনা হয়। প্রথম দিকে বাংলাদেশে প্রচলিত কিছু বর্ণ বাদ পড়লেও অনেকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পরে সেগুলো অনন্তর্ভূক্ত করা সম্ভব হয়। শুরু হয় নতুন চর্চা। কিন্তু এখনো রয়েছে নানা জটিলতা। এ কারণে বাংলা ইউনিকোড সব ক্ষেত্রে প্রয়োগ সম্ভব হয়নি। এখনো আমরা আসকি (Ascii)নির্ভর বহুলাংশে। আবার বিভিন্ন কি-বোর্ড লেআউটের ভিড়ে সর্বজন স্বীকৃত একটি লেআউট নিয়ে এগোতে পারিনি।
http://www.omicronlab.com
ওমিক্রনল্যাব বাংলা ভাষার জন্য কাজ করে যাচ্ছে ২০০৩ সাল থেকে। এরই মধ্যে তারা বেশ কিছু সাফল্য নিয়ে এসেছে। তাদের তৈরি অভ্রকিবোর্ড আজ পরিচিত একটি নাম। এটি একটি সফটওয়্যার, যার মাধ্যমে একই সঙ্গে ইংরেজি ও বাংলায় লেখা যায়। এতে কয়েকটি বাংলা কি-বোর্ড লেআউট যুক্ত করা আছে। ইউনিবিজয় কি-বোর্ড লেআউটটি বিজয় সদৃশ হওয়ায় বিজয় ব্যবহারকারীরা সহজেই অভ্রতে অভ্যসত্দ হতে পারবেন। ২০০৭ সালের শেষের দিকে পোর্টেবল অভ্রকিবোর্ড এর রিলিজ হয়। এতে সুবিধা যে, পেনড্রাইভে করে অন্যত্র নেয়া যায় এবং ইন্সটল ছাড়াই যে কোনো কমপিউটারে ব্যবহার করা যায়। এর সঙ্গে বাংলা ইউনিকোড ফ্রন্ট যুক্ত করা আছে। ওমিক্রনল্যাব এটি ফ্রি ডাউনলোড ও ব্যবহারের সুবিধা দেয়।
http://www.ekushey.org
ইউনিকোডে লেখার জন্য ফ্ন্ট প্রয়োজন। ‘একুশে’ ক্রমান্বয়ে অনেক ফ্ন্ট বাজারে এনেছে। যেগুলো উইন্ডোজ, লিনাক্স-এ এরই মধ্যে ব্যাপক হারে ব্যবহার হচ্ছে। বর্তমানে তারা ম্যাক উপযোগী ফ্রন্ট তৈরি করেছে। বাংলা কমপিউটিংকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে একুশে। একুশের ইউনিজয় স্ক্রিপ্ট ইউনিকোড সমর্থিত উপায়ে বাংলা লিখতে সহায়তা করে। সব লিনাক্স সিস্টেমে এ ইউনিজয় স্ক্রিপ্ট যুক্ত করা যায়। মোজিলা ও ফায়ারফক্স ব্রাউজারের বাংলা লোকালাইজেশন করেছে তারা। ওয়ার্ডপ্রেসের বাংলা প্লাগইন ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারকারীদের বাংলা লিখতে সহায়তা দিচ্ছে। এমন অসংখ্য প্রজেক্ট নিয়ে একুশে এগিয়ে চলেছে একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনাকে ধারণ করে।
http://bnwebtools.sourceforge.net
কাজের প্রয়োজনে অনেকেই কনভার্টার তৈরিতে আগ্রহী হন। এর অন্যতম কারণ হলো আমরা বিভিন্ন কি-বোর্ড লেআউট ব্যবহারে অভ্যস্ত। তাই সে টেক্সটগুলো আবার কম্পোজ না করে কিভাবে ইউনিকোডে রূপান্তর করা যায় এ চিন্তা থেকেই বেশ কয়েকটি কনভার্টার এখন বাজারে বিদ্যমান। ফ্রি ব্যবহার করতে দেয়ার কারণেও কনভার্টারগুলো ব্যাপক সমাদৃত। কয়েকটি কনভার্টারের মধ্যে মাহবুব মোর্শেদের এ কনভার্টারটি আসকি থেকে ইউনিকোডে এবং ইউনিকোড থেকে আসকিতে রূপান্তর করতে পারে। তাছাড়া এতে জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি কি-বোর্ড লেআউট ব্যবহার করে টাইপ করা যায়। ডেস্কটপ পাবলিশিংয়ে এখনো আসকি ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই আমরা দুটি সিস্টেমকেই চালু রাখতে বাধ্য হচ্ছি।
http://www.joomla.org.bd/bn/home/index.php
বাংলা ওয়েবসাইট তৈরি ছিল এক সময়ের বিরাট চ্যালেঞ্জ। ইংরেজি ওয়েবসাইট তৈরি করতে যতো না ঝক্কি পোহাতে হতো তারচেয়ে বাংলা ওয়েবসাইট তৈরি ছিল অনেকটা গূঢ় রহস্যের মতো। বাংলা সাইট তৈরির খুটিনাটি বিষয় জানা না থাকলেও আপনি অতি সহজেই বানাতে পারবেন বিভিন্ন ডিজাইনের সাইট। জুমলা হলো অনেক ফ্রি সিএমএস (কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) এর মধ্যে অন্যতম। সারা বিশ্বে এর কদর দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই জুমলা ব্যবহার করেই আপনি সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট বাংলায় উপস্থাপন করতে পারবেন। আর যেহেতু এটি ফ্রি একটি টুল তাই চাইলে এর যে কোনো পরিবর্তন-পরিবর্ধন সাধনেও আপনি সচেষ্ট হতে পারবেন। সে জন্য অবশ্যই আপনাকে ওয়েব প্রোগ্রামিং জানতে হবে।
http://www.ubuntu.com
আমরা ইংরেজিতে যথার্থই দুর্বল। কমপিউটার জ্ঞান সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার প্রসঙ্গ এলেই ইংরেজি ভাষাটা অন্যতম অন্তরায় হয়ে দাড়ায়। আবার বাংলা কমপিউটিং আমাদের জন্য ছিল সোনার হরিণের মতো। তাই অনেকেই বাংলা অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেন। উইন্ডোজ সিস্টেম মাইক্রোসফটের হাতে এবং ভিসতা ভার্সনে এরই মধ্যে বাংলা যুক্ত থাকার কথা আমরা জানতে পেরেছি। লিনাক্সের উবুন্টু ভার্সনকে ভিত্তি করে অঙ্কুর হৈমন্তী ও শ্রাবণী নামে দুটি অপারেটিং সিস্টেম বাজারে ছেড়েছে যেগুলোর চেহারা সম্পূর্ণ আমাদের মাতৃভাষায়।
সৈয়দ জিয়াউল হাবীব রুবন



